পয়লা সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে কোনও সংবাদমাধ্যম পুড়বে না। আগুন লাগানোর ডাক দিয়েছে আনন্দবাজার, নরেন্দ্র মোদী, শিবসেনা, হুঁশিয়ার করেছেন দেশের মানুষকে, বাংলার সুশীল এবং পতিত দুই সমাজেকেই, গোটা গোটা অক্ষরে ঘোষনা করেছেন আতঙ্কের কথা: জনসংখ্যায় মুসলমানেরা গিজগিজিয়ে উঠতে চলেছে, সাবধান হিন্দুত্ব। ভালো চাও তো পয়দা করে চলো অভুক্ত শিশুর ভিড় – টাকার জন্য নিরক্ষরের দল এইটুকু পারবে না! টাকার জন্য মানুষকে কি না করতে হয় গরীবের দেশে, জ্যান্ত ব্যাঙ গিলে উগরোতে হয়, বিপজ্জনক গোলকের মধ্যে মোটরসাইকেলের কায়দা দেখাতে হয় যতদিন না নির্মমতম সংঘর্ষে থেতলে যায় বাইক সমেত শরীর গুলো, খুন করতে হয়, খুন হতে হয়। এ হেন দেশেরা ক্ষমতাবানেরা মিথ্যে রটানোর ব্যবসা করবেন না তো কি কৃষকের আত্মহত্যা নিয়ে মাথা ঘামাবেন? ক্ষমতা কায়েম রাখার জন্য মানুষকে কী না করতে হয়, ধর্ষণের পর ধর্ষণ ঢাকতে ডাক দিতে হয় কন্যার সাথে সেলফি তুলে আদিখ্যেতার, খুনের পর খুনের খবরকে চাপা দিতে রাতারাতি বন্ধ করতে হয় একটা গোটা রাজ্যের ইন্টার্নেট পরিষেবা, টাকার লোভ দেখিয়ে আদায় করে নিতে হয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা – এসবই ক্ষমতার স্বার্থে। এ হেন সময়ে বুদ্ধিমানের দল ক্ষমতার পা না চেটে কি সাধারণের পাশে দাঁড়াবেন? ক্ষমতাকে মদত দিয়ে ক্ষমতায় ভাগ বসাতে গিয়ে কী না করতে হয় একটি প্রচার মাধ্যমকে, একজন মানুষের অন্দরমহলের গোপনতম কোনায় অনুপ্রবেশ করে যাবতীয় ব্যক্তিগত দলিল প্রকাশ্য করে তার নাম দিতে হয়, “কঙ্কালকাণ্ড”, প্রতিরোধের মিছিল থেকে একটি মাত্র ব্যক্তির উপস্থিতিকে প্রকট করে কিছু পোষা দালাল ধরে এনে দাগিয়ে দিতে হয়, “অশালীন”, কিছু শব্দবন্ধ তৈরী করে রোববারের বৈঠকখানাতে আর চায়ের দোকানে পরিবেশন করতে হয়, যেমন “ব্রা -কাণ্ড” অথবা “অন্তর্বাসকাণ্ডে নয়া মোড়”, আর এই বেলা যখন রগরগে শালীনতায় পাতার পর পাতা জমে আনন্দবাজার, ঠিক তক্ষুনি, সেই যথার্থ শুভলগ্নে একটা আদ্যন্ত ভুল পরিসংখ্যানকে যথেচ্ছ প্রতিক্রিয়াশীলভাবে প্রথম পাতায় ছেপে পরের দিন প্রবন্ধে দেখাতে হয় প্রগতিশীলতা। এ সবই, সবই পোষ মানার স্বার্থে। এখন, লক্ষ লক্ষ দেহকে সাম্প্রদায়িক আগুনে দগ্ধ করার ডাক দিয়েছে যে সংবাদপত্র, যে ক্ষমতা, যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, তাকে আমরা পুড়িয়ে খতম করবো এমন স্পর্ধা অথবা আহাম্মকি আমাদের নেই। ঠিক তেমনি একটা গোটা দেশকে গুজরাট বানানোয় মদত প্রদানকারী একগুচ্ছ পাতাকে সংবাদপত্র বলে সম্মানিত করার মত সহনশীল এবং ভন্ডও আমরা হয়ে উঠতে পারছিনা। পয়লা সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে আপনি কোনও সংবাদপত্র পোড়াবেন না। লক্ষ শব্দের মিথ্যের কিছুটা অন্তত জ্বালাবেন। আগুন দিয়ে না পারলে ক্রোধ দিয়ে। কোটি শব্দের ভন্ডামিকে কিছুটা অন্তত মুছে দেবেন, পেট্রোল দিয়ে না পারলে, প্রাতঃকৃত্য দিয়ে।